‘ওরা কেমন আছে?’ – সম্পাদকীয়

বিভিন্ন সুস্বাদু রান্না নিয়ে বিভিন্ন হেঁশেলের কথা তো আমরা জানি। আমাদের শহরেই রয়েছে বিভিন্ন নামিদামি রেস্তোরাঁ, যেখানে পেট ভরে বাঙালির ভুরিভোজের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য সময়ের মতন এই হেঁশেল যুক্ত ভোজবিলাসের সময় যে আজ নয়, তা আমরা সকলেই অবগত। প্রতি মূহূর্তেই বাড়ছে করোনার থাবা। দেশ জুড়ে করোনা নিয়ে চলছে চরম সতর্কতা এবং রজু হচ্ছে লকডাউন। করোনার জেরে কর্মহীন হয়েছেন অনেকে, তার ওপর এই লকডাউনের ঘা। সবমিলিয়ে অন্নসংস্থানও হারিয়েছেন বহু মানুষ।

তবে এই খাদ্য সংকটের দিনে এমন কিছু মানুষ রাস্তায় নেমেছে যাঁরা রোজ নিঃস্বার্থে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্যে অন্নের সংস্থান করছেন। এলাকা ভিত্তিক কিছু মানুষ ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক উদ্যোগে ‘কমিউনিটি কিচেন’ চালিয়ে এই সংকটের মুহূর্তে খেতে না পাওয়া মানুষের কাছে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। এই আন্দোলন আজ ছড়িয়ে পড়ছে জেলায় জেলায়, শহর থেকে শহরতলিতে। উদ্যোক্তারা মনে করেছেন কাঁচা রেশনের থেকেও এইমুহূর্তে প্রয়োজনীয় হয়েছে রান্না করা খাবার কারণ রেশনের দোকানে চাল-ডাল পাওয়া গেলেও, বিপরীতে জ্বালানির দাম বাড়ছে উত্তরোত্তর। তাই বুভুক্ষু মানুষের কাছে রান্না করা খাবার অচিরেই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এই ‘কমিউনিটি কিচেন’ এর সাহায্যে। কোথাও সাইকেলে সাইকেলে করে বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে ডাল-ভাত, ডিম-ভাত, মাছ-ভাত, মাংস-ভাত আবার কোনো কোনো জায়গায় সোশ্যাল ডিস্টানসিং মেনে লাইন করে বিলি হচ্ছে খাবার।

এই ‘কমিউনিটি কিচেন’ বা ‘নাগরিক হেঁশেল’ – এক অভূতপূর্ব ধ্যান। আমরা আশা করবো যাতে সচেতন সমাজের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষেরা আরও বেশি করে এরকম উদ্যোগে সামিল হয়ে খাদ্য সংকটের দিনে সাধারণ মানুষের খিদে মেটানোর ব্যবস্থা করতে পারে। অনেক মানুষ ও এগিয়ে আসছেন এই কাজে। যারা একটু হলেও ভালো আছেন তারা যদি এই কাজে এগিয়ে আসেন তাহলে সত্যিই এই শ্রমজীবী মানুষ গুলো কে পেটে খিদে নিয়ে ঘুমোতে হয়না।

জন্মদিন হোক বা বিবাহ বার্ষিকী আমরা কি ভাবতে পারিনা এই ভাবে উদযাপন করার কথা? যদি এই ‘কমিউনিটি কিচেন’ এর একদিন এর রান্নার এবং ব্যবস্থাপনার খরচ টা বহন করা যায়? যদি কেউ পুরোটা পারেন, পুরোটা আর নাহলে একটা ভাগ দেওয়ার তো সুবিধে আছেই। একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, এই মানুষ গুলো কিন্তু খুব আনন্দের সাথে হাত পেতে খাওয়ার নিচ্ছেন না, অনেক মানুষ এর কাজ চলে গেছে, অনেক কল কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক বাড়িতে কাজ করা মানুষ দের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, শ্রমজীবী মানুষ দের শ্রমের দরজা গুলোই বন্ধ হয়ে গেছে, এবং এই মানুষ গুলো জমানো কোনো অর্থ নেই বলেই দুবেলা খাওয়ার জোগাড় করার সামর্থ্যও এদের নেই। তাই যার যেরকম ক্ষমতা, আমরা যদি এই কমিউনিটি কিচেন গুলোর পাশে দাঁড়াতে পারি, তাহলে সত্যি করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো হবে।

যদি আপনি এই কাজে কোনো রকম সাহায্য করতে চান, অবশ্যই আমাদের মেল করুন, kothabriksha@gmail.com এ। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

Ft image: http://www.india.com

2nd image taken from Debojyoti Mishra’s facebook page.

Copyright © Kothabriksha 2020, All Rights Reserved

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.