বিশ্বাসঘাতকের জন্ম – সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য

প্রথম পর্ব : শব্দ । তারিখ ২/৭/২০১৭, রবিবার

এখন আর অন্য কোনও কাজ নেই, তাই সময় কাটতে চায় না। এমনিতেই ছুটির দিন, তার উপর আজ পড়াতে যাওয়াও নেই। তাই দুপুরবেলা খাওয়া সেরে একটু আঁকিবুঁকি করব ভাবছিলাম। এরমধ্যেই গুর-গুর করে মেঘ ডেকে দারুনভাবে বৃষ্টি শুরু হল। সকাল থেকেই কেমন অল্প-অল্প করে মেঘ জমছিল আকাশটাতে। এখন সেটাই সীমা অতিক্রম করে নেমে আসছে প্রবল বেগে। জানলার পাশে বসে বাইরেটা দেখছি। বেশ কিছুদিন ধরেই বৃষ্টি হয়েই চলেছে। খবরে বলেছে আগামী কয়েকদিন ভারি-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আমার ঘরে হাবিজাবি জিনিসে অগোছালো ভাবে ঠাসা। নানান রঙ-তুলি, কাগজ, পড়ার বই, গল্পের বই থেকে শুরু করে অপ্রয়োজনীয় ছেঁড়া কার্ডবোর্ডের অবশেষ, ছুরিকাঁচি মিলিয়ে একরকম হ-য-ব-র-ল মতন হয়ে থাকে। যতবার গুছিয়ে রাখি ততবারই থিক দুইদিন যেতে না যেতেই আবার তারা চিরাচরিত স্থানে ফিরে যায়। ঐ সমস্ত কিছুর নিচে একটা পুরোনো ট্রাঙ্ক আছে। দাদু-ঠাকুরমার জিনিস আছে মনে হয়। তার উপরেই সেই বিশৃঙ্খল সম্পত্তি আমার। আমি সেগুলো কাটিয়েই জানলা দিয়ে মুখ বার করে রাস্তায় কতটা জল জমেছে বোঝার চেষ্টা করছি, হঠাৎ ঘরের ভেতর একটা সূক্ষ্ম কিন্তু অদ্ভুত শব্দ। যেন কেউ প্লাস্টিক জাতীয় কিছুর উপর দিয়ে চলে গেল। জানলা থেকে মুখ ফিরিয়ে বোঝার চেষ্টা করছি কিসের শব্দ হল। এমনিতেই মেঘ করে থাকায় ঘরের ভেতরটা অন্ধকার। তার উপর এত তাড়াতাড়ি ঘটনাটা ঘটে যাওয়ায় বুঝতে পারলাম না কিছু। কড়্‌-কড়্‌ করে কাছাকাছিই কোথাও একটা বাজ পড়ল। মুখ ফিরিয়ে আমি আবার জানলার দিকে তাকালাম।

দ্বিতীয় পর্ব : সূত্র

ব্যাপারটা বাবাকে জানাতে বাবাও বললেন যে কালই নাকি একটা বড়সড় টিকটিকিকে দেখেছেন বারান্দায়। তাও কেমন মনটা খচখচ করছে। ঘরে ফিরে আঁকার জিনিসপত্র বার করছি। খাটের উপর আমার বখাটে রঙ-তুলিগুলো রেখে বোর্ডখানা নামাতে যাব এমন সময় একরাশ বৃষ্টির ঝাপটা এসে জানলার পাশে রাখা বই গুলোর উপর পড়ল। তারাহুড়ো করে সে জলের ফোঁটাগুলো মুছতে গেলাম, আর কনুইয়ের গুঁতো গিয়ে লাগল পাশের বইয়ের পাহাড়ে। সবশুদ্ধু নিয়ে নিজের ভারে সেটা হুড়মুড়িয়ে গিয়ে পড়ল মাটিতে। নাঃ, আজ আবার গোছাতে হবে। এক এক করে কাগজপত্র তুলে রাখছি। কয়েকটা পেন-পেন্সিল গড়িয়ে গিয়ে ঐ ট্রাঙ্কের তলায় ঘাপটি মেরেছে। মাটিতে শুয়ে পরে যেইনা ট্রাঙ্কের তলায় হাত দিয়েছি অমনি একটা কিছু সাংঘাতিক বেগে লাফ মেরে হাত ডিঙ্গিয়ে খাটের তলায় পালিয়ে গেল। ব্যাপারটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না তাই আমিও চমকে পিছনে সরতে গিয়ে টেবিলের কোনায় গুঁতো খেয়ে গেলাম। আলো জ্বেলে খাটের তলায় ভাল করে দেখলাম, নাঃ কিচ্ছু তো নেই। টেবিলের তলাটাও ফাঁকা। আশ্চর্য ব্যাপার, কি যে ছিল আর কিভাবে যে চোখের পলকে গায়েব হয়ে গেল বুঝতে পারলাম না। সারা ঘর ভাল করে দেখেও কিছুই পেলাম না। ঐ বড় টিকটিকই হবে, হয়ত দেওয়াল দিয়ে উঠে জানলা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছে।

ঘরের অবস্থা একেবারে যাচ্ছেতাই। গুছাবই যখন আজ সব ঝেড়ে মুছে নেব ঠিক করলাম। ট্রাঙ্কটাকে টেনেটুনে সরাতেই আরেক চমক! পেলাম এক সূত্র—একদলা কাগজ। ছোটছোট কাগজ দিয়ে কেউ যেন একটা বাটির মতো তৈরি করেছে। জিনিসটা মোটেই যাচ্ছেতাই ভাবে তৈরি নয়, বরং ভাল করে দেখলে বোঝা যায় সৃষ্টিকর্তা বেশ কর্মঠ। হাতে তুলে দেখি তাতে কয়েকটা ছেঁড়া বাসটিকিট আর দুটো মুড়ি ছাড়া বিশেষ কিছুই নেই। অবশেষে বইপত্রের ধুলোর সাথে সেটাকে বিদায় করে দিলাম। কিন্তু কে বা কারা এমন কাজটা করল? আমার এই বিশৃঙ্খল রাজ্যটার মধ্যে চোখে ধুলো দিয়ে কে এমন কাগজের বাটি বানালো ? এ জিনিস মোটেই একদিনের নয়, এর পিছনে রয়েছে বেশ কিছুদিনের পরিশ্রম। টিকটিকি? আমি আজ পর্যন্ত কোনও টিকটিকিকে এমন কাণ্ড করতে দেখিনি। নাঃ, এবার একটা গুপ্তচর সংস্থা বানাতেই হবে দেখছি। এইসব ছাইপাশ ভাবতে ভাবতেই সময় কেটে গেল।

তৃতীয় পর্ব : ঘাত – প্রতিঘাত। তারিখ ৩/৭/২০১৭, সোমবার

ঘুম থেকে উঠতেই মায়ের চেঁচামেচি শুনতে পেলাম। কিন্তু, আমি তো সেরকম কিছু অপকর্ম করেছি বলে মনে পরছে না, তবে? পাশের ঘরে উঁকি মেরে দেখি ঠাকুরমাও আছেন। মেঝেতে কি যেন চকচক করছে। মাসের প্রথমে আনা সাদা তেলের প্যাকেটটা কিভাবে যেন ফেটে অর্ধেকের বেশি তেল মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছে। ঠাকুরমা কাপড় দিয়ে মুছে মেঝেটা তেল শুন্য করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অবশিষ্ট তেল একটা বোতলে তুলে রাখা হয়েছে। আমি প্যাকেটটা নেড়েচেড়ে দেখলাম। কোথাও কোনও ফুটো নেই, শুধু কাঁচি দিয়ে মা যে অংশটা কেটেছেন সেটা তখনও মাটিতে পরে আছে।

কি নিপুন ভাবে কেউ ফুটোটা করেছে যে চোখেই পরছে না। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার আসেপাশের অন্যান্য জিনিস থাকতেও সেগুলোর কিছুই হয়নি। মনে মনে ভাবছি এই তেল নিয়েই যত রাজ্যের ঝামেলা আর হানাহানি। কিন্তু কে যে এমন কাজটা করল? সেই কাগজের বাটির সাথে কি কিছু সম্পর্ক রয়েছে? বেশ বুঝতে পারছি সরকারের চোখের আড়ালে বেশ কিছুদিন ধরে গুপ্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে কেউ। আর কাকতালীয় ভাবে সেটা সরিয়ে দিতেই বুঝি তার অজ্ঞাত মালিকের উপর হয়েছে আঘাত। তাই রাতের অন্ধকারে চুপিসারে গেরিলা কায়দায় প্রতিঘাত।

খবরটা ছড়াতেই, সরকার পক্ষ থেকে ডাইনিং টেবিল বৈঠক ডাকা হয়েছে। সবাইকে ব্যাস্ত করে তুলেছে এরুপ কার্যকলাপ। আমি আমার মতামত এবং গত দেড় দিনের ঘটনা রিপোর্ট করে দিলাম। সমস্ত রকম প্রমাণ এবং কার্যের যাচাই হওয়ার পর অবশেষে সরকারের তরফে স্থির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, “এ নিশ্চয়ই কোনও ইঁদুরের কাজ – নেংটি ইঁদুর।” ঠাকুরমার মতো অভিজ্ঞ সরকারি কর্মচারী দুইয়ে দুইয়ে চার করে ফেললেন। এবারে ব্যাটাকে ধরতে হবে। পাল্টা ছক কষা হল।

চতুর্থ পর্ব : ঝড়ের আগে। তারিখ ৮/৭/২০১৭, মঙ্গলবার

মঙ্গলবারে সরকারের মঙ্গলের দায়ে যথারীতি পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘সার্চ পার্টি’ বেড়িয়ে পড়ল। নিচু স্তরের কর্মচারী হওয়ায় আমার উপরেই দায়িত্ব পড়ল গোপন ডেরা খুঁজে বার করার। টর্চ আর বন্দুকরুপী ঝাঁটা কাঁধে ফেলে সরকারি সৈন্যদলের মতো দারুনভাবে রুটমার্চ করতে করতে সমস্ত ঘর টহল দিলাম। খাটের তলা থেকে কম্পিউটারের সিপিউ পর্যন্ত দফায় দফায় খানা তল্লাশি চলল। যাবে কোথায়? নিশ্চয়ই এমন কোথাও লুকিয়ে আছে যেখানে সরকারি কোপ এখনও পরেনি। সারাদিন তন্ন-তন্ন করে খুঁজেও খালি হাতে ফিরতে হল।

এতো সাংঘাতিক রকমের বিপ্লবী নেংটি ইঁদুর! কিছুতেই ধরা দিচ্ছে না। সারাদিনের অভিজানের পর রাতে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, যদি আগামীকালও না খুঁজে পাওয়া যায় তবে ধরে নেওয়া হবে পালিয়েছে দেশ ছেড়ে। পরের দুদিন সব চুপচাপ। এদিকে উপরওয়ালার চাপ বেড়েই চলেছে। দরজায় দরজায় কড়া পাহারা বসানো হয়েছে। রাতে দশটার পর রাস্তায় রাস্তায় নাকাবন্দি করা হয়েছে। সর্বদা সজাগ রয়েছে সরকার। এই দুদিন সন্দেহজক কিছু ঘটেনি। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে রাজ্য। বাবার মতে, হয়তো সে পালিয়েছে ভয় পেয়ে। কিন্তু আমার মন বলছে এ যেন ঝড়ের আগের শান্ত আবহ। দেখা যাক কি হয়।

পঞ্চম পর্ব : মুখোমুখি সংঘাত। তারিখ ৭/৭/২০১৭, শুক্রবার

ঝড় যে আসবে আমার মনে হয়েছিল। আমি কখনও মানিনি নেংটিটা পালিয়ে গেছে। আজ সকালে দ্বিতীয়বার আক্রমনের খবর এল। এবার একসঙ্গে চার চারটে তেলের প্যাকেট একই কায়দায় ফুটো করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মাথায় হাত। এতো কড়া বাবস্থার মধ্যেও নাকের তলা দিয়ে এতবড় আঘাত তেলের গুদামে। আমার মনে হয়, এ বেশ শিক্ষিত নেংটি ইঁদুর, না হলে বেছে বেছে তেলের ভাঁড়ারে আক্রমন! জরুরী অবস্থা ঘোষণার পরিস্থিতি। তেলের ট্যাংকারে হামলা অর্থাৎ যুদ্ধবিমান চলবে না, ট্যাঙ্ক চলবে না, অর্থনীতিতে ধস, সবমিলিয়ে সরকার নাস্তানাবুদ।

মায়ের আদেশে এবার পাল্টা পরিকল্পনা হল। পুনরায় ডাইনিং টেবিল বৈঠকে স্থির হল আধুনিক বিপ্লবীকে ধরতে আধুনিক পদ্ধতি দরকার। আমি সরকারকে জানালাম যে শক্ত খাঁচার বাবস্থা করা হোক, তাতে ধরা পড়বে। কিন্তু নিচুতলার কর্মচারী হওয়ায় আমার মত টিকল না। আনা হল বিদেশ থেকে অত্যাধুনিক ভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরি ‘আঠা’, যাতে থাকবে খাওয়ার টোপ। লোভে পা দিলেই আটকে যাবে সে। বিকেলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ফাঁদ পাতা হল। তেলের ফাঁকা প্যাকেটকে ঝুড়ির মধ্যে রেখে তার সামনে আঠা ছড়ানো হল। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

ষষ্ঠ পর্ব : বন্দি ও পাহারাদার
সময় : রাত ১০ টা

রাতের খাওয়া সেরে নিজের ঘরে ফিরেছি। কাগজের মধ্যে কাগজ ঢুকে গিয়ে আমার ঘরটার অবস্থা আবার স্বাভাবিকভাবে অগোছালো হয়ে গিয়েছে। বইপত্র তুলে রাখছি। বাইরে এখনও বৃষ্টি হচ্ছে। হঠাৎ কানে এলো এক মিহি আওয়াজ। উৎস খুঁজে উঁকি মারতেই দেখতে পেলাম সেই বিপ্লবী নেংটি মহাশয় জালে পরেছেন। আঠালো কার্ডবোর্ডে আটকে গিয়ে লাফালাফি করছেন। টর্চ জ্বেলে প্রথমবার সামনাসামনি দেখলাম তাকে। খুদে খুদে চোখ দুটো, ছুঁচালো মুখ, ধূসর দেহ লোম দিয়ে ঢাকা। লেজখানা দেহের আকারে বেশ বড়। সবমিলিয়ে তিন ইঞ্চির দেহ আর আড়াই ইঞ্চির লেজ নিয়ে তিনি এখনও আপ্রাণ লড়াই চালাচ্ছেন মুক্তির আশায়। খবর পাঠিয়ে দিলাম, ধরা পড়েছে খুদে বিপ্লবী।

দীর্ঘ ছয়দিনের লড়াইয়ের পর অবশেষে আজ বন্দি। সরকার থেকে সবাই দেখতে এসেছে তাকে। এবার পর্ব সাজা ঘোষণার। হয়তো আজ রাতটাই ওর শেষ রাত হবে। আদালতে ওর নামে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা এবং সরকারি কর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে অশান্তিমুলক কার্যকলাপের মামলা করা হয়েছে। বিচারে ওর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। এখন সে চুপচাপ শুয়ে আমার দিকে তাকিয়ে দেখছে। আসে পাশে কেউ নেই। ও কি জানে ওর পরিনতির কথা? ছোট্ট দেহটা মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে। হয়তো ভাবছে এখনই আমি ওকে মেরে দেব। রুটির টুকরোটা এগিয়ে দিই ওর মুখের কাছে। ও খায় না। আঠায় আটকে গিয়েছে ডান দিকটা। ডান চোখটাও সম্ভবত জখম হয়েছে। মাঝে মাঝে কুঁই-কুঁই করে এখনও প্রতিবাদ করছে। আমি ওর জায়গায় হলে কি করতাম? একজন বন্দির সাথে একজন পাহারাদারের সম্পর্ক কি?

সপ্তম পর্ব : মানুষে – না- মানুষে

কিছুক্ষণ আগেই ঘড়িতে বারোটা বেজে গেছে। বন্দির সামনেই বসে আছি। এইটুকু একটা নেংটি, আর সে কিনা এতো বড় বড় প্রতিপক্ষের সাথে লড়াইয়ে নেমেছিল, এমনকি রীতিমত তটস্থ করে রেখেছিল রাজ্যটাকে। খুদে বিপ্লবী মৃত্যুকে সামনে রেখে সময় কাটাচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও দু-তিন বার মুখ ফিরিয়ে নিয়েও আর বসে থাকতে পারলাম না। হতে পারে ও দোষী। কে বিচার করছে? মানুষে? শেষে কিনা পৃথিবীর সবচেয়ে হিংস্র প্রাণী বিচার করছে যে কে দোষী। কি অদ্ভুত এই বিচার। বৃষ্টিতে রাস্তায় জল জমে চারপাশ ডুবে গিয়েছিল। আশ্রয় হারিয়ে ও এসেছিল আমার ঘরে উদ্বাস্তু হয়ে। এসেছিল পেটের তাড়নায়। ধ্বংস তো ও করেনি, শুধুমাত্র নিজের জীবধর্ম বজায় রেখেছিল বাঁচবার জন্যে। তার শাস্তি আজ ওর মৃত্যুদণ্ড!

আমি এক পাহারাদার। সরকার আমায় বিশ্বাস করে ওকে বন্দি বানিয়ে রেখেছে আমার কাছে। কিন্তু এভাবে একজন মরতে পারে না। আমি ভাবতে থাকি কি করতে পারি। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, এই সুযোগ। অন্ধকারে লুকিয়ে ওকে তুলে নিয়ে গেলাম বাড়ির পাশের মাঠে। আঠা ছাড়িয়ে দিতেই সে বিপ্লবী নেংটি ইঁদুর মাটিতে পরে আমার দিকে তাকিয়ে রইল এক মুহূর্ত, জ্বলজ্বলে চোখে। যেন সে বিশ্বাস করতে পারছে না। পরমুহূর্তে মুক্তির আনন্দে সে ছুটতে শুরু করল ঘাসের উপর দিয়ে, দূরে, মাঠ ছাড়িয়ে আরও দূরে। তারপর অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।

সেদিকে তাকিয়ে থাকি কিছুক্ষণ। এখন আমি কে? এক বিশ্বাসঘাতক। হ্যাঁ, আজ রাতে এক বিশ্বাসঘাতকের জন্ম হল। সরকারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি আমি। কিন্তু কেন জানি না আমার ভাল লাগছে আজ। বিশ্বাসঘাতকের কি শাস্তি হয় জানি না। বাড়ি ফিরলে কাল সকালে সরকার আমায় কি দণ্ড দেবে তাও জানি না। ফিরতে ফিরতে আকাশের দিকে তাকালাম। দীর্ঘ কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টির পর আকাশে মেঘ নেই আর, তারারা জ্বলজ্বল করছে। আজ রাতের আকাশটা কতো বড় আর কতটা স্বাধীন লাগছে। কাল থেকে হয়তো মানুষে – না- মানুষের কোনো নতুন এক পর্বের শুরু হবে।

Copyright © Kothabriksha 2020, All Rights Reserved

লেখক পরিচিতি : সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য একজন স্নাতকোত্তর ছাত্র।

5 Comments Add yours

  1. Kathakali Sen Sharma says:

    Khub Sundor lekhata . Upori dik theke lekhata bishon adbhut o bhinno lagbe kintu joto toliye bhabte jacchi toto mil khuje pacchi . Asadharon ! Porer lekhar apekhai roilam.

    Like

  2. Sagnika Das says:

    Adbhoot Sundor bhabe golpota lekha o sajano hoyeche. Khub bhalo laglo .

    Like

  3. Srirati chakraborty says:

    Darun❣❣❣😊😊😊😊

    Like

  4. Angika Das says:

    Just amazing. Keep writing ♥️

    Like

  5. Samriddhi Roychowdhury says:

    Oshadharon 💕

    Like

Leave a Reply to Srirati chakraborty Cancel reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.